শিউলী ইসলাম’এর ব্লগ

জীবন মানেই গল্প কবিতা ছন্দের আলোকিত শক্তি

এই মোর বাণী…

নিজেকে জানি
যা  কিছু ভাল মানি
মুছে যাক অকল্যাণের গ্লানি
প্রাণেতে বাজে শুদ্ধতার ধ্বনি
এই হোক মোর বাণী।।

শুভজন্মদিনে শুভেচ্ছা

শুভজন্মদিনের মত ভরে উঠুক
 তোমাদের জীবন সদানন্দ
  
 যাক ধুয়ে ঘৃণা ক্ষোভ মন্দ

প্রানেতে ভরে যাক গান

হৃদয়ে আসুক প্রানবন্ত ছন্দ

সবারে ভালবাস কর আনন্দ।। আম্মু

 

বকুলতলা

টিনে শনে কত বাড়ি

বাঁশ বাগানের সারি সারি

পিছন পাড়ে পুকুর ঘেরা

আম কাঁঠল আর লিচুতে সেরা

শাপলা শালুক বিলের ধারে

বক পাখিরা মাছ ধরে,

বকুলতলায় ঝরতো বকুল

গোলাপ বেলী ফুটতো যে ফুল

মাচায় মাচায় কুমড়ো ঝোলে

কচি পটল শোলার

বেড়ায় বাতাসে দোলে

ফাগুন মাসে মৌ মাছিরা

বসে আমের বোলে

মৌ পিয়ে সেই সুবাসে

নাচে তালে তালে

ধানের শিষে মিষ্টি বাতাস

দোলে নাচন তোলে

সেই খুশীতে হৃদয়

তখন আনন্দেতে ভোলে

মাঠে মাঠে বেড়ায় রাখাল

বাজায় বাঁশী সকাল বিকাল

পুকুরে মাছ করে খেলা

ভেসে বেড়ায় কলার ভেলা

সেই সে দিনের

মধুর মধুর ছবি

ভাবি বসে লিখে দিতেম

যদি হতেম কবি।।

 

হীরের কণা

  

অঙ্গার নিজে পুড়ে

হয়েছে আঁধারে কালো

লুকিয়ে রেখেছে তার  

মনেতে অসীম আলো  

কালো অপবাদে পরেছে  

হীরে ঝলমলে মল  

নীরবে নিভৃতে ফেলে  

নয়নের যতো জল  

প্রাসাদে ঘরে তার  

খনির হীরের কণা  

কালো ভেবে ছুড়ে  

ফেলে দেয় অঙ্গারখানা  

বেদনার জালে বোনা

ছড়িয়ে দেয় প্রীতিকণা 

আত্মাহুতি দিয়ে উৎসর্গ  

করেছে অন্তরের মালাখানা  

মরুময় করেছে অঙ্গার  

তনু হিয়া পুড়ে পুড়ে  

আর্তনাদ উল্লাস ভেবে  

কখনও সে ভুল করে  

দোলে যায় পদাঘাতে  

তারে করে পদদলিত  

নিজে পুড়ে রক্তিম  

অগ্নিশিখা হয় জ্বলন্ত  

ছড়িয়ে দেয় শিখার  

আলো দিক দিগন্ত  

নেভে আর জ্বলে  

বারবার যেন নিবন্ত  

প্রতিটি ক্ষনে নিজের  

কাছে যেন সে জীবন্ত  

আকাশে পাতালে  

মৃত্তিকাতে জ্বলে নিত্য  

অমূল্যরতন বিলিয়ে দিয়ে  

নিজেকে করে রিক্ত  

হৃদয়ের ভালবাসা দিয়ে  

পৃথিবীকে করে দীপ্ত  

কালো অপবাদ থেকে  

হয়না কখনও মুক্ত।।  

২৫শে বৈশাখ

 রবির আলোয় উদ্ভাসিত

পাতায় পাতায় পল্লবিত

 ২৫শে বৈশাখ,

তোমারি গানে গানে তব ভরে থাক

 প্রকৃতিতে সুরে সুরে

মিশে আছো অন্তরে অন্তরে

আকাশে বাতাসে সবখানে

ভরিয়ে দিয়েছো থরে থরে

 যা ছিল দিয়েছো সবকিছু দেবার

 উন্নত শিরে মনে আছো সবার

 তব গানে গানে আছো মনে মনে

হিয়ার মাঝে রয়েছো ধ্যানে জ্ঞানে

তরনী তটিনীর তীরে

আকাশের তারার ভীড়ে

আছো সবখানে

তবু খুঁজি তোমায় আমি শূন্য নয়নে

কখনও আবার বনে বনে

হৃদয়ে খুঁজি দুবাহু বাড়িয়ে

 সবকিছুকে ছাড়িয়ে

আছো তুমি সর্বএ ছড়িয়ে

আছো নক্ষএ হয়ে তিমিরে

যুগ যুগ ধরে রবে তুমি হৃদয়ের ।।

 

কর ভক্তি

কটু কথা ধরো না
সন্দেহেতে থেকো না
কলুষিত মন ভবঘুরে
নিয়ে যাবে আস্তাকুঁড়ে
বলবে তখন ভাবিস রে?
স্বপ্নঘোরে রাজাধিরাজ করে
কাজকে দেবে দূরে ঠেলে
যায় জীবন হেসে খেলে
চিন্তাহীন ভাবনাহীন দিন
জীবনের আনন্দ ক্ষীণ
অলসে বাজায় বীণ।
যায় না তবু প্রহর দিন
আত্মগ্লনিতে নুইয়ে পড়ে
মনেতে তখন ঘুনে ধরে
 আত্মগৌরবে খুশি ঝরে
মনের দুঃখ মনের ঘরে
থাকে সে সঙ্গী করে
 যায় যে সবাই  দূরে সরে।
কর সুকাজ আনে শক্তি
নিজেকে কর ভক্তি
পাবে তবে মুক্তি।।

বৈশাখে

বৈশাখে দুরন্ত বাতাসে-

টুপটাপ আম পড়ে মিষ্টি সুবাসে

পাতাগুলো যেন ডাকে মৃদু বাতাসে

 ছেলেমেয়ে আমগুলো নিয়ে যা এসে-

কচি আম গুটি গুটি পায়ে

চুপি চুপি যায় তুলে নিয়ে 

  পথে যেতে কখন হোঁচট খেয়ে

 দূরে চলে যায় দৌড়ে পালিয়ে   

 পেয়েছে যেন অজেয় কিছু

আনন্দে আত্মহারা দেখেনা পিছু

টক ঝাল মেখে মিষ্টি মুখে

খায় তারা বসে আনন্দে সুখে

কষে রাঙিয়ে আহ্লাদে  তারা

খুশির জোয়ারে মন যে হারা।।

 

Word count: 65 Draft Saved at 9:45:08 pm. Last edited by শিউলি ইসলাম on এপ্রিল 14, 2010 at 6:51 AM

এক্কা গাড়ি চলে রথে

অর্পণ যাকিছু ধরণীর পর

 প্রকৃতি যেন এক পাথর

সাগরে অজস্র ঢেউয়ের খেলা

সাগর থেকে পরেছে মালা

হার নয় তো কণ্ঠক মালা

তরঙ্গমালা করে খেলা

 জানেনা সে ছলনা

তারে কেউ বোঝেনা

ছলনা ছাড়া চলেনা

অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বোঝেনা

সব কিছু নিজের পথে

এক্কা গাড়ি চলে রথে

 পথ হারা তরঙ্গের ভীড়

কোথাও পায়না যেন তীর

কখনও সে নির্ঝরে পড়ে

আবার জড়ো করে নীড়ে

নিজেকে পায় যেন ফিরে

নক্ষএ হতে চায় সুদূরে

নিভে যায় ধীরে ধীরে।।

 

 

এই পৃথিবীতে

যে তোমারে সুনজরে দেখে

 দোষ ত্রুটি যদি থাকে 

রেখো তারে তোমার অন্তরে 

নেবে তোমায় বন্ধু করে। 

ছোটখাটো খুনশুটি

  মিছে ধরো ভুলত্রুটি

ভুলে ভরা পৃথিবীতে 

নির্ভুল পাবেনা একটিতে- 

  ভুলে যাও সব এই ক্ষণেতে 

 ক্ষমার চোখে রেখে দাও মনেতে

মনে হবে আহা আছো স্বর্গেতে 

মনের আনন্দে ভাসবে স্রোতে

 ভালো আর মন্দের এই পৃথিবীতে 

 দু’টোই থাকবে মানুষের মনেতে।  

ভালোটুকু নিয়ে ডাকো কাছে

মন্দটুকু মুছে দাও হৃদয় থেকে- 

 বন্ধ দুয়ার খুলে দাও বারে বারে 

রবে না দুঃখ ক্ষোভ হৃদয়ের গভীরে। 

 

 

  

  

   

  

 

 

   

 

অম্লান রবে

এত দ্বন্দ্ব কুৎসা কেন এই মনেতে

দূর করে দাও তারে ধরনীতে।

শুভ্র সুন্দর রজনীগন্ধা

 ফোটাও হৃদয়েতে

অনুভূতিগুলো ফোটাও বারে বারে

শান্ত নয়নে সাজিয়ে রাখো চারিধারে,

ভুল ভেবে বেঁচে থাকার তরে

তৈরী করো তারে মন্দিরে।

যে তোমারে পৃথিবীর জঞ্জাল

 থেকে মুক্তি দেবে

স্নিগ্ধ প্রশান্তির ছোঁয়া আত্মায় পাবে

হৃদয় ও আত্মায় জয় কর তবে

সে জয় চিরদিন অম্লান রবে।

পরিপাটি

 

পরিপাটি বাড়ি

সাজানো গাড়ি

কতো যে সারি

যেন কতো পরিপাটি।

যদিও সবই অগোছালো

দাবার গুটি সাজানো ।

গুছিয়ে রাখলে থাকে না খাপে

খেলার ছলে সরে যায় ধাপে ধাপে

চলে যেন নিজের কাজে

প্রাণহীন নিজের মাঝে।

যেদিকে তাকাও এখানে ওখানে

জীবনের অর্থ সাজানো অগোছালো

অর্থহীন জীবনটাকে না দেখানো।

নিজেকে সবার মাঝে বাজানো

বিবেকহীন আত্মাকে নিজে বোঝানো

চারিপাশে নিজের ছবি বাঁধানো

সবার চোখে নিজেকে রাঙানো ।।

ফাগুনের জানালা

এসেছে ফুল আমের শাখেতে

দোলা দেয় মনের জানালাতে

ফাগুন এসেছে বাসন্তী পরে

পলাশ শিমুলে লালে ভরে

ঝরা পাতা নতুনের গন্ধে

দিকে দিকে ঝরে সবুজের ছন্দে।

মৌ পিয়ে সরিষার ফুলেতে

ফুলের গন্ধে মাতাল নেশাতে।

শিশির বিন্দু ঘাসের শেষে

ফাগুনে ঝরে মুক্তোর বেশে।

ফুটেছে নানা ফুল বনেতে

পদ্ম ফোটে বিলে ঝিলেতে

পানকৌড়ী ডুব দেয় জলে

মাছরাঙা বসেছে রঙিন শাড়ীতে

ফাগুনে মাতাল বনে মনে

ফোটে ফুল হৃদয়ের কোনে

কোকিলের সুর বেজেছে প্রাণে

জেগেছে ভালোবাসা মনে

ফুটেছে যতো তারা আকাশেতে

হেসে দিশাহারা শশী গগনতে

নানা সুরে হৃদয়ের তারাতে

গায় গান আপন হারাতে।।

তিলোত্তমা

ছাদে যাই তুলতে ভোরে বেলী

ফুটে আছে টগর জবার কলি

মিষ্টি কুয়াশার নির্মল আবেশে

শিশির জড়িয়ে সূর্য্যি ঘুমিয়ে আছে।

সোনালী চোখ প্রকৃতিতে মেলে ধরে

স্নিগ্ধ নয়নে স্নান করে ঘরে ফেরে

শুভ্র আকাশে অনলের তিলক কপোলে।

পাতাগুলো আলতো ছুঁয়ে দেখে সকলে

গাছগুলোর ঘুম ভাঙে হাতের পরশে

জানায় অভিবাদন ওদের সাথে

নিলিপ্ত নয়নে চায় বোঝাতে,

ভালোবাসা অন্তরের অন্তঃস্হল থেকে

যাকিছু সমর্পন করেছে আমাদের কাছে।

বন্ধু হতে পারিনা প্রকৃতির পাশে

অন্যায় অবিচার করি ওদের সাথে

তবু ওরা বঞ্চিত করেনা অবশেষে।

আড়ি

কাঁচা পাকা খোঁচা দাড়ি

ভিক্ষে করতো  বাড়ি বাড়ি

কাঠের পুতিমালা গলে

চন্দনের টিপ কপোলে,

পাগড়ী দিয়ে মাথে

থলে নিয়ে কাঁধে,

ভিক্ষে চাইতো দয়ারাম

হরে কৃষ্ণ হরে রাম।

সপ্তাহে দুই দিন

ঘুমিয়ে থাকে পাঁচদিন

হাতে নিয়ে লাঠি

ডান হাতে বাটি,

চাইতো ভিক্ষে একমুষ্টি

পূজো করতো জামাইষষ্টি।

আসতো যখন বাড়ি

দিতেম সবাই আড়ি,

গান শোনাবে যবে

ভিক্ষে দেবো তবে,

শোনাতো সে কীর্তন

আরো গাইতো ভজন।

গাইতো সে গান

জুড়িয়ে যেতো প্রান, 

দুষ্টমিতে ছিলেম রাজা

ভিক্ষে দিতেম খাজা।

নীড়ে

 এ হৃদয়ে আছে শুধু শূন্য ঘর

যদিও কেউ নয় তো আমার পর

 আবেগ ভলোবাসায় পরিপূর্ণ নিজে ধন্য

 কেউ বোঝে না অকৃত্রিম সেইজন্য।

 যা কিছু আমার দেবার চাই দিতে

  ওদের অক্ষমতা নিয়ে পারে না সইতে

 ফিরে আসি নিজে মৌন হৃদয়ে।

 যাই যতো কাছে ফিরে আসি দূরে

 বোঝে না তারা মনের গভীরে

 দোষারোপ করে দূমুর্খের কারনে

 সত্যকে চেনে তবু ভয় পায়

 মিথ্যাকে জড়িয়ে রাখতে চায়।

 ওদের কথায় থাকে চিরাচরিত রেশ

 আমার ক্ষোভের বিন্দু মাত্র নেই লেশ

 দুঃখ নেই যদি থাকে বেশ

 চেষ্টা করেছি মতে মিশে যেতে

 যেমন তেলে জলে মেশে না শেষে

  ফিরে এসেছি তাদের থেকে অবশেষে।

 এসেছি আমার ছোট্ট হৃদয়ের নীড়ে

 পারি না যেতে আর তাদের ভীড়ে।

 

 

 

 

 

 

 

মুক্তি

 

 প্রতিবার নিজের শৃঙ্খল থেকে চাই মুক্তি
এ পথ থেকে পরিত্রাণ পাবার নেই শক্তি
শরীরের প্রতি অঙ্গে হাতে পায়ে শিকল
এ অঙ্গ রক্ত চক্ষুর আড়ালে হয়নি বিকল
তবু বলব নিজের ভুলের কর্মফল।
নিজের কুকাজ যতো দোষ ঢেকে রাখি
দিয়েছি নিজের কাছে নিজেকে ফাঁকি,
এখন শুধু নিজের কাছে নিজেকে সঁপে
নিজের সুকাজের ভেতর নিজেকে  আনতে।
অজানা কুকাজ সুকাজ সূক্ষভাবে চিনতে
দন্ডমান করে  বিবেকের কাছে লিখতে
 ভুলগুলো নিজের অধিকারে কাঁধে নিতে
কৈফিয়ৎ প্রতিদিন  নিজেকে দেবো  নিশীথে। 
  প্রদীপের নীচের অন্ধকার দোষাবো কিসে
আলোর কাছে অন্ধকার ম্লান হয়ে যায় শেষে।
 

কথামালা-২৭

শুভ্র নিঃষ্পাপ যার মনন

আছে তার অমূল্য রতন।

কথামালা-২৬

তোমার প্রতিভা যদি বিকশিত করতে চাও

তবে ক্ষোভ দুঃখ কষ্ট এবং নেতিবাচক

দিকগুলো মন থেকে মুছে ফেলো । দেখবে

তোমার স্মরণশক্তি, চিন্তার পরিধি বৃদ্ধি

পেয়েছে । তোমার মেধা মনন শক্তি কাজে

লাগিয়ে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে।

আনন্দের সুধা

                     মম অন্তর করো প্রসারিত

                    হৃদয় করো মোর উচ্ছ্বসিত

                   মনকে করো সুসমমণ্ডিত

                   করোনা  যেন তাকে খণ্ডিত

                 বিবেককে করোনা  কুলষিত

                  আত্মগ্লানিতে হবেনা দন্ডিত।

                   হয়ো না নিজে কখনো কুণ্ঠিত

                   হৃদয়ের গভীরে রাখো সঞ্চিত

                   ভালোবাসা তোমার পুঞ্জিত

                   করতে দিও না তারে লুণ্ঠিত

                করবে না তোমায় তবে  বঞ্চিত।

                   হয়োনা কারো কখনো নন্দিত

                 করবে তোমায় তবে ভুলন্ঠিত

                অজ্ঞ হয়ে দেখিও না পাণ্ডিত্য

                  তবে  পাবেনা কারো সান্নিধ্য।

                    সদা থাকো মগ্ন-সুচিন্তিত

                   হবে তবে তুমি সাফল্যমণ্ডিত

                   হও তুমি সদা সুনিয়ন্ত্রিত

                 আত্মিক বন্ধন হবে সুসংহত

                ধরার প্রতি রাখো  মমত্ব।।

কথামালা-২৫

      

কাউকে দোষারোপ করার মধ্যে কোন

আনন্দ নেই। নিজের প্রতিভা বিকাশের

সুযোগ বা সমাধানের পথ নিজেকেই

বেছে নিতে হয়। আর সে সুযোগ বার

বার আসে, সেটা কাজে লাগানোর

জন্য নিজের ইচ্ছেটাই যথেষ্ট ।

স্বপ্নপুরী

ভুবন জোড়া মনের দুয়ার 

 যদি রাখো খুলে

প্রজাপতির পাখার মতো

স্বপ্নগুলো উঠবে জেগে দুলে,

ময়ূরপক্ষী  নাও ভেসে

 যাবে তুমি স্বপ্নপুরী চলে।  

সেথা বেঙ্গমা বেঙ্গমী গল্প বলে

 গভীর রাতের শেষে,

 গল্প শুনে ওদের সাথে যাবে

 তবে পাতালপুরীর দেশে।

   ফিরে এসে যাবে শেষে

 নীলকমলের পাশে,

 তখন তোমায় ফুলপরীরা

 ডাকবে ভালোবেসে।

 ফুলপরীদের পাখায় ভেসে

 ঘুরবে তুমি নানা দেশে,

   দেখবে তুমি মিষ্টি দুপুরে

 চাঁদ হাসে ঐ নীল চাদরে।

  কতো রঙের বাড়ীগুলো

ঘুরছে সেথা আকাশ ফুঁড়ে,

   লালপরী নীলপরী সাদাপরী

রাখবে তোমায় ঘিরে,

       পরীরানী  গান শোনাবে

        মিষ্টি মধুর সুরে।

       যাও যদি ঐ পাহাড় চূড়ায়

উঠবে নেচে তোমায় নিয়ে

        ফুল জাগিয়ে ঢেউ তুলে ঐ

 ঝর্না যাবে উর্ধ্বে বয়ে।

        মেঘের সাথে মিলে মিশে

 বৃষ্টি নামে অবশেষে।

  তারাগুলো চমকে দিয়ে 

বিজলী হয়ে ভাসে।

স্বপ্নপুরীর আজব কাণ্ড 

দেখবে যতো ঘটে

     ভাববে স্বপ্নে না আঁকা  

    তোমার হৃদয়পটে।

         ফিরবে যখন সাজিয়ে দেবে

রাজকুমারীর বেশে,

        আসবে ফিরে নীল পরীর

ঐ রঙিন পাখায় ভেসে।

 

 

  

অন্তহীন দুরাশা

-হে দূরন্ত ভালোবাসা-
মিটে না আমার এ পিয়াসা
অনন্তকালের ক্ষুব্ধ মোর ভালোবাসা
ফিরিয়ে দিতে চাই তোমায়-
এক অন্তহীন দূর্নিবার দুরাশা
অশান্ত উচ্ছল চঞ্চলতা মমতা
বোঝে না তোমার শান্ত গভীরতা
শুধু দেখে বাইরের কঠিনতা।
মরুভূমিতে ফোটাও কণ্টকাকীর্ণ লতা
শান্ত পথিককে তৃষ্ণায় ভেজাও শীতলতা
যাও তুমি দূরে বহুদূরে-
যেখানে আছে প্রিয়জন ঘিরে
পারো না বোঝাতে বারে বারে আসো ফিরে।
-হে অসীম তুমি চলে যাও
কোন এক সাগরের তীরে
রেখে দেবে না  তোমায় বাঁধনের নীড়ে
অশান্ত সাগরে মিলেমিশে
একাকার হয়ে খুঁজে পাবে তারে,
ডাকবে না কেউ দু-বাহু বাড়িয়ে
রাখবে না তোমায়
হৃদয়ের মৃদুলা স্পর্শে জড়িয়ে।
তবু ফিরে যাও তুমি
অন্তহীন ভালোবাসা মোর
অব্যক্ত পাহাড়ের মাঝে
খুঁজে পাবে তোমার অধরার
অজানা যতো কথা বাজে।

শ্রাবণপাতে

  আকাশে ধূসর-নীলে মিশে ঘিরে

গোধুলী লগন শেষে শশী ফিরে,

শ্রাবণ মেঘে ভেলায় ভেসে খেলে

কখনও মৌন মেঘ দূরে যায় চলে

মেঘের ফাঁকে চাঁদের মিষ্টি হাসি

দূরে বাজে ঐ উদাসী বিষের বাঁশী,

চেনা সুরে নাচে মন অনুরাগে

মাতাল ছন্দে পবণ আজি সুর হারা

ছুটে চলে যে সে বাঁধন হারা

কেতকীর গন্ধে মিলন বিফল ব্যথায়

বউ কথা কও বিরহে তন্দ্রাহারা,

প্রাণের সুরের বাঁধনে ডেকে যায়

ফেরে সে গান নীরব হাওয়া-হাওয়া।

নিবিড় মধুর স্বপ্নে ভাসায় আজি

অকারণ বেদনায় জল আসে নয়নপাতে

বরষণ ধারায় ঝরো ঝরো শ্রাবণপাতে

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

দ্বীপরূপে

শ্যামল মেঘের ঘনঘটা ঐ আকাশে

মেঘের পর মেঘে চলেছে বাতাসে । 

অস্ফুট মঞ্জুরী কাঁপে নব পল্লব পুলকিত

 উচ্ছল তরঙ্গ তরঙ্গিনী নির্ঝর কল্লোলে

বাদল বাতাস নাচে যুঁথী মালতীর গন্ধে

 ধরনী গগনে ধায় অশান্ত মিলনের ছন্দে ।

পদ্ম শিশির কসুম সলিলে ঢেউয়ে ভাসে

ময়ূর পেখম মেলে নাচে কুঞ্জ বনে হরষে।

গগনে ঘনঘটা মর্মবেদোনা ঘন অন্ধকারে

সঙ্গী রিক্ত হৃদয়ে বাজে গোপন ব্যথা

বিরহ কাতর ব্যথায় গগনে

ঝরে বারি ধারা সেথা নেই শশী তারা।

বিজলী চমকে উপবনে

হরিণ শাবক ভয়ে হয়ে যায় পথহারা

দূর হতে তোমায় দেখি নিভৃতে দ্বীপরূপে

অবগুণ্ঠন ছায়া ঘুচায়ে

 স্মিতমুখে চেয়ে চলে যাও দূরে বহুদূরে

নীল গগনে

 

অজানা বিরহ জাগে প্রানে  

শয়নে স্বপনে তিমির জাগরনে

গেয়ে যাই শুধু  বিষাদের  গানে

নিরবে  জ্বলে ধি্কি ধি্কি দহনে

 পাইনা ভেবে  কি ভুলের কারনে

বারে বারে নিজেরে শুধাই বিজনে

তাই খুঁজে ফিরি তোমায় আপনে

পাই যদি দেখা  নীল গগনে

শুধাবো দূরের ঐ নীপবনে,

গোধুলী ক্ষণে বেড়াবো সঙ্গোপনে

ফেলে যাবো দুফোঁটা জল রোদনে

জানবে না এ ধরায় তুমি বিহনে

এ ব্যথায় আকুল হল কুঞ্জ কাননে

মেঘে মেঘে পুঞ্জভিত হল বরিষণে

সাগর নদীতে মিলিত হল মোহনে

রবে না এ ব্যথা শুধু স্মৃতির চয়নে। 

মন নেচেছে

মন নেচেছে মনে মনে

 তাই তো ওই বকুল ঝরে।

মৃদুবায় মাধবী দোলে

নেচে ওঠে দোদুল দুলে।

টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ে

 পায়রাগুলো আকশে উড়ে।

নৌকা চলে নদীর তীরে

 জ্যোৎসনা হাসে গগন ঘিরে।

সিক্তমেঘ যায়  দিগন্তে

 ফুল ঝরানো পূণিমারাতে।

সাগর ছুটে হিল্লোলে

লক্ষ্যবিহীন কোন সুদূরে।

ফুল ফোটে কাননে 

শরতের প্রভাতে।

ঐ ছোটে মৌমাছি

 মৌ পিয়ের নেশাতে।

 

 

পাপিয়া

 
 পিউ কাহা পিউ কাহা
ডেকে ফেরে পাপিয়া
  মধুর সুরে গান যায় গাহিয়া। 
ক্লান্ত দুজনে খুঁজে ফেরে তবু
মিলনের তৃষ্ণা মেটে না কভু।
প্রিয়ারে পাবার আশায়
 পিছু ছোটে  মরিচীকায়, 
দেখা পায় না  তার  মিতারে
তবু ডেকে যায় বারে বারে,
  হৃদয়  জুড়ে রেখে  দেয়  তারে  
 কখন  ভোলে  না   প্রিয়ারে।
 

কথামালা পর্ব-২৪

 
জীবনে যতো প্রকার যুদ্ধ করতে হয়,
তার মধ্যে যে নিজের বিবেকের সাথে
যুদ্ধ করে যে জয়ী হয় সেই আসলে
প্রকৃত যোদ্ধা।
 

শুভদিনে

 
অজানা এক বিরহের
 বেদনা বাজে মোর প্রানে
মনের গভীরে খুঁজে
ফিরে তোমায় এইক্ষনে।
আজ শুভদিনে হেথায় সেথায়
ব্যস্ত সবাই আয়োজনে
শুধু তোমার পাইনে
 দেখা অবুঝ পরানে।
কতো শতো কাজে নিজেকে
উজাড় করে দিয়েছো কতজনে
কোথাও তোমার কোনো  কথা
জেগে  নেই কারো মনে।
সকলে নিজের মতো
ব্যস্ত শুধু নিজের কারনে।
জানি তুমি ভুল বুঝে
রেখেছো আমায় আঁধারে
হৃদয়ের গভীরে যতোবার
 ভাবি মরে যাই মরমে  
শুধু জানি তুমি আছো মোর
 হৃদয়ের গভীরে গোপনে।।
 

তেপান্তের মাঠ পেরিয়ে

আলমান্ডা নীলকণ্ঠ ফুলে

মৃদুমন্দ বাতাস ঢেউ তুলে

নুয়ে পড়ে দুলে দুলে

 মৌ তোলে ফুলে ফুলে

ভ্রমর মেতেছে গন্ধে

নাচে  গানে ছন্দে

তাই তো প্রজাপতি

আনন্দে লুটোপুটি

 আকাশ মেলেছ  রঙধনুতে

সূর্যের মিষ্টি হাসিতে

সেজেছে যেন পরিপাটি

 মেঘ রঙের ছুটোছুটি

 জড়িয়ে মেঘের চাদরে

রঙের বিনুনী  সাদরে

যেতে হবে বহুদূরে-

সাত সমুদ্র  ছাড়িয়ে

 তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে।।

Older entries »
Follow

Get every new post delivered to your Inbox.