শিউলী ইসলাম’এর ব্লগ

জীবন মানেই গল্প কবিতা ছন্দের আলোকিত শক্তি

আড়ি

কাঁচা পাকা খোঁচা দাড়ি

ভিক্ষে করতো  বাড়ি বাড়ি

কাঠের পুতিমালা গলে

চন্দনের টিপ কপোলে,

পাগড়ী দিয়ে মাথে

থলে নিয়ে কাঁধে,

ভিক্ষে চাইতো দয়ারাম

হরে কৃষ্ণ হরে রাম।

সপ্তাহে দুই দিন

ঘুমিয়ে থাকে পাঁচদিন

হাতে নিয়ে লাঠি

ডান হাতে বাটি,

চাইতো ভিক্ষে একমুষ্টি

পূজো করতো জামাইষষ্টি।

আসতো যখন বাড়ি

দিতেম সবাই আড়ি,

গান শোনাবে যবে

ভিক্ষে দেবো তবে,

শোনাতো সে কীর্তন

আরো গাইতো ভজন।

গাইতো সে গান

জুড়িয়ে যেতো প্রান, 

দুষ্টমিতে ছিলেম রাজা

ভিক্ষে দিতেম খাজা।

নীড়ে

 এ হৃদয়ে আছে শুধু শূন্য ঘর

যদিও কেউ নয় তো আমার পর,

 আবেগ আর ভলোবাসায় নয় পরিপূর্ণ

 কেউ বোঝে না অকৃত্রিম সেইজন্য।

 যা কিছু আমায় দেবার চাই দিতে

 অক্ষমতা নিয়ে পারে না সইতে,

 ফিরে আসি নিজে মৌন হৃদয়ে।

 যাই যতো কাছে ফিরে আসি দূরে

 বোঝে না তারা মনের গভীরেক,

 দোষারোপ করে দূমুর্খের কারনে

 সত্যকে চেনে তবু ভয় পায়

 সত্যকে ঢেকে রাখতে চায়।

 তাদের কথায় থাকে চিরাচরিত রেশ

 আমার ক্ষোভের বিন্দু মাত্র নেই লেশ

 দুঃখ নেই যদি থাকে বেশ,

 চেষ্টা করেছি মতে মিশে যেতে

 যেমন তেলে জলে মেশে না শেষে

 তাদের থেকে ফিরে এসেছি অবশেষে।

 এসেছি আমার ছোট্ট হৃদয়ের নীড়ে

 পারি না যেতে আর তাদের ভীড়ে।

 

 

 

 

 

 

 

বিবেকের কাছে

 

 প্রতিবার নিজের শৃঙ্খল থেকে চাই মুক্তি
এ পথ থেকে পরিত্রাণ পাবার নেই শক্তি
শরীরের প্রতি অঙ্গে হাতে পায়ে শিকল
এ অঙ্গ রক্ত চক্ষুর আড়ালে হয়নি বিকল
তবু বলব নিজের কাজের কর্মফল।
নিজের কুকর্ম যতো দোষ ঢেকে রাখি
দিয়েছি নিজের কাছে নিজেকে ফাঁকি,
এখন শুধু নিজের কাছে নিজেকে সঁপে
চাই নিজের কাজের সুফল বয়ে আনতে।
অজানা কুকাজ সুকাজ সূক্ষভাবে চিনতে
দন্ডমান করে  বিবেকের কাছে লিখতে
 ভুলগুলো নিজের অধিকারে কাঁধে নিতে
কৈফিয়ৎ নিজেকে দেবো প্রতিদিন নিশীথে। 
  প্রদীপের নীচের অন্ধকার দোষাবো কিসে
আলোর কাছে অন্ধকার ম্লান হয়ে যায় শেষে।
 

কথামালা-২৭

শুভ্র নিঃষ্পাপ যার মনন

আছে তার অমূল্য রতন।

কথামালা-২৬

তোমার প্রতিভা যদি বিকশিত করতে চাও

তবে ক্ষোভ দুঃখ কষ্ট এবং নেতিবাচক

দিকগুলো মন থেকে মুছে ফেলো । দেখবে

তোমার স্মরণশক্তি, চিন্তার পরিধি বৃদ্ধি

পেয়েছে । তোমার মেধা মনন শক্তি কাজে

লাগিয়ে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে।

আনন্দের সুধা

                     মম অন্তর করো প্রসারিত

                    হৃদয় করো মোর উচ্ছসিত

                   মনকে করো সুসমমণ্ডিত

                   করোনা  যেন তাকে খণ্ডিত

                 বিবেককে করোনা  কুলষিত

                  আত্মগ্লানিতে হবেনা দন্ডিত।

                   হয়ো না নিজে কখনো কুণ্ঠিত

                   হৃদয়ের গভীরে রাখো সঞ্চিত

                   ভালোবাসা তোমার পুঞ্জিত

                   করতে দিও না তারে লুণ্ঠিত

                করবে না তোমায় তবে  বঞ্চিত।

                   হয়োনা কারো কখনো নন্দিত

                 করবে তোমায় তবে ভুলন্ঠিত

                অজ্ঞ হয়ে দেখিও না পাণ্ডিত্য

                  তবে  পাবেনা কারো সান্নিধ্য।

                    সদা থাকো মগ্ন-সুচিন্তিত

                   হবে তবে তুমি সাফল্যমণ্ডিত

                   হও তুমি সদা সুনিয়ন্ত্রিত

                 আত্মিক বন্ধন হবে সুসংহত

                ধরার প্রতি রাখো  মমত্ব।।

কথামালা-২৫

      

কাউকে দোষারোপ করার মধ্যে কোন

আনন্দ নেই। নিজের প্রতিভা বিকাশের

সুযোগ বা সমাধানের পথ নিজেকেই

বেছে নিতে হয়। আর সে সুযোগ বার

বার আসে, সেটা কাজে লাগানোর

জন্য নিজের ইচ্ছেটাই যথেষ্ট ।

স্বপ্নপুরী

ভুবন জোড়া মনের দুয়ার 

 যদি রাখো খুলে

প্রজাপতির পাখার মতো

স্বপ্নগুলো উঠবে জেগে দুলে।

ময়ূরপক্ষী  নাও ভেসে

 যাবে তুমি স্বপ্নপুরী চলে।  

সেথা বেঙ্গমা বেঙ্গমী গল্প বলে

 গভীর রাতের শেষে।

 গল্প শুনে ওদের সাথে যাবে

 তবে পাতালপুরীর দেশে,

   ফিরে এসে যাবে শেষে

 নীলকমলের পাশে,

 তখন তোমায় ফুলপরীরা

 ডাকবে ভালোবেসে।

 ফুলপরীদের পাখায় ভেসে

 ঘুরবে তুমি নানা দেশে

   দেখবে তুমি মিষ্টি দুপুরে

 চাঁদ হাসে ঐ নীল চাদরে।

  কতো রঙের বাড়ীগুলো

ঘুরছে সেথা আকাশ ফুঁড়ে

   লালপরী নীলপরী সাদাপরী

রাখবে তোমায় ঘিরে

        গান শোনাবে নেচে নেচে

পরীরানী মিষ্টি মধুর সুরে।

       যাও যদি ঐ পাহাড় চূড়ায়

উঠবে নেচে তোমায় নিয়ে

        ফুল জাগিয়ে ঢেউ তুলে ঐ

 ঝর্না যাবে উর্ধ্বে বয়ে।

        মেঘের সাথে মিলে মিশে

 বৃষ্টি নামে অবশেষে।

  তারাগুলো চমকে দিয়ে 

বিজলী হয়ে ভাসে।

স্বপ্নপুরীর আজব কাণ্ড 

দেখবে যতো ঘটে

     ভাববে স্বপ্নে না আঁকা

      আছে তোমার হৃদয়পটে।

         ফিরবে যখন সাজিয়ে দেবে

রাজকুমারীর বেশে,

        আসবে ফিরে নীল পরীর

ঐ রঙিন পাখায় ভেসে।

 

 

  

অন্তহীন দূরাশা

-হে দূরন্ত ভালোবাসা-
মিটে না আমার এ পিয়াসা
অনন্তকালের ক্ষুব্ধ মোর ভালোবাসা
ফিরিয়ে দিতে চাই তোমায়-
এক অন্তহীন দূর্নিবার দূরাশা
অশান্ত উচ্ছল চঞ্চলতা মমতা
বোঝে না তোমার শান্ত গভীরতা
শুধু দেখে বাইরের কঠিনতা।
মরুভূমিতে ফোটাও কণ্টকাকীর্ণ লতা
শান্ত পথিককে তৃষ্ণায় ভেজাও শীতলতা
যাও তুমি দূরে বহুদূরে-
যেখানে আছে প্রিয়জন ঘিরে
পারো না বোঝাতে বারে বারে আসো ফিরে।
হে অসীম তুমি চলে যাও
কোন এক সাগরের তীরে
রেখে দেবে না  তোমায় বাঁধনের নীড়ে
অশান্ত সাগরে মিলেমিশে
একাকার হয়ে খুঁজে পাবে তারে,
ডাকবে না কেউ দু-বাহু বাড়িয়ে
রাখবে না তোমায়
হৃদয়ের মৃদুলা স্পর্শে জড়িয়ে।
তবু ফিরে যাও তুমি
অন্তহীন ভালোবাসা মোর
অব্যক্ত পাহাড়ের মাঝে
খুঁজে পাবে তোমার অধরার
অজানা যত কথা বাজে।

শ্রাবনের ধারা

  আকাশে ধূসর নীলে মিশে ঘিরে

গোধুলী লগন শেষে শশী ফিরে

শ্রাবন মেঘে ভেলায় ভেসে খেলে

কখনও মৌন মেঘ দূরে যায় চলে

মেঘের ফাঁকে চাঁদের মিষ্টি হাসি

দূরে বাজে ঐ উদাসী বিষের বাঁশী

চেনা সুরে নাচে মন অনুরাগে

মাতাল ছন্দে পবন আজি সুর হারা

ছুটে চলে যে সে বাঁধন হারা

কেতকীর গন্ধে মিলন বিফল ব্যথায়

বউ কথা কও বিরহে তন্দ্রাহারা

প্রাণের সুরের বাঁধনে ডেকে যায়

ফেরে সে গান নীরব হাওয়া-হাওয়া

নিবিড় মধুর স্বপ্নে ভাসায় আজি

অকারণ বেদনায় জল আসে নয়নপাতে

বরষণ ধারায় ঝরো ঝরো শ্রাবনপাতে

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

দ্বীপরূপে

শ্যামল মেঘের ঘনঘটা ঐ আকাশে

মেঘের পর মেঘে চলেছে বাতাসে । 

অস্ফুট মঞ্জুরী কাঁপে নব পল্লব পুলকিত

 উচ্ছল তরঙ্গ তরঙ্গিনী নির্ঝর কল্লোলে

বাদল বাতাস নাচে যুঁথী মালতীর গন্ধে

 ধরনী গগনে ধায় অশান্ত মিলনের ছন্দে ।

পদ্ম শিশির কসুম সলিলে ঢেউয়ে ভাসে

ময়ূর পেখম মেলে নাচে কুঞ্জ বনে হরষে।

গগনে ঘনঘটা মর্মবেদোনা ঘন অন্ধকারে

সঙ্গী রিক্ত হৃদয়ে বাজে গোপন ব্যথা

বিরহ কাতর ব্যথায় গগনে

ঝরে বারি ধারা সেথা নেই শশী তারা।

বিজলী চমকে উপবনে

হরিণ শাবক ভয়ে হয়ে যায় পথহারা

দূর হতে তোমায় দেখি নিভৃতে দ্বীপরূপে

অবগুণ্ঠন ছায়া ঘুচায়ে

 স্মিতমুখে চেয়ে চলে যাও দূরে বহুদূরে

নীল গগনে

 

অজানা বিরহ বেদন জাগে প্রানে  

শয়নে স্বপনে তিমির জাগরনে

গেয়ে যাই শুধু  বিষাদের  গানে

নিরবে  জ্বলে ধি্কি ধি্কি দহনে

 না পাই ভেবে  কি ভ্রমের কারনে

বারে বারে নিজেরে শুধাই বিজনে

খুঁজে ফিরি তাই তোমায় আপনে

পাই যদি দেখা তোমার নীল গগনে

শুধাবো তোমায় দূরের ঐ নীপবনে,

গোধুলী ক্ষণে বেড়াবো সঙ্গোপনে

যাবো ফেলে দুফোঁটা জল রোদনে

জানবে না এ ধরায় তুমি বিহনে

এ ব্যথায় আকুল হল কুঞ্জ কাননে

মেঘে মেঘে পুঞ্জভিত হল বরিষণে

সাগর নদীতে মিলিত হল মোহনে

রবে না এ ব্যথা শুধু স্মৃতির চরণে। 

মন নেচেছে

মন নেচেছে মনে মনে

 তাই তো ওই বকুল ঝরে।

মৃদুবায় মাধবী দোলে

নেচে ওঠে দোদুল দুলে।

টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ে

 পায়রাগুলো আকশে উড়ে।

নৌকা চলে নদীর তীরে

 জ্যোৎসনা হাসে গগন ঘিরে।

সিক্তমেঘ যায়  দিগন্তে

 ফুল ঝরানো পূণিমারাতে।

সাগর ছুটে হিল্লোলে

লক্ষ্যবিহীন কোন সুদূরে।

ফুল ফোটে কাননে 

শরতের প্রভাতে।

ঐ ছোটে মৌমাছি

 মৌ পিয়ের নেশাতে।

 

 

পাপিয়া

 
 পিউ কাহা পিউ কাহা
ডেকে ফেরে পাপিয়া
  মধুর সুরে গান যায় গাহিয়া। 
ক্লান্ত দুজনে খুঁজে ফেরে তবু
মিলনের তৃষ্ণা মেটে না কভু।
প্রিয়ারে পাবার আশায়
 পিছু ছোটে  মরিচীকায়, 
দেখা পায় না  তার  মিতারে
তবু ডেকে যায় বারে বারে,
  হৃদয়  জুড়ে রেখে  দেয়  তারে  
 কখন  ভোলে  না   প্রিয়ারে।
 

কথামালা পর্ব-২৪

 
জীবনে যতো প্রকার যুদ্ধ করতে হয়,
তার মধ্যে যে নিজের বিবেকের সাথে
যুদ্ধ করে যে জয়ী হয় সেই আসলে
প্রকৃত যোদ্ধা।
 

শুভদিনে

 
অজানা এক বিরহের
 বেদনা বাজে মোর প্রানে
মনের গভীরে খুঁজে
ফিরে তোমায় এইক্ষনে।
আজ শুভদিনে হেথায় সেথায়
ব্যস্ত সবাই আয়োজনে
শুধু তোমার পাইনে
 দেখা অবুঝ পরানে।
কতো শতো কাজে নিজেকে
উজাড় করে দিয়েছো কতজনে
কোথাও তোমার কোনো  কথা
জেগে  নেই কারো মনে।
সকলে নিজের মতো
ব্যস্ত শুধু নিজের কারনে।
জানি তুমি ভুল বুঝে
রেখেছো আমায় আঁধারে
হৃদয়ের গভীরে যতোবার
 ভাবি মরে যাই মরমে  
শুধু জানি তুমি আছো মোর
 হৃদয়ের গভীরে গোপনে।।
 

তেপান্তের মাঠ পেরিয়ে

 

 

আলমান্ডা নীলকণ্ঠ ফুলে গাছগুলো
মৃদুমন্দ বাতসের ঢেউ তুলে
নুয়ে পড়ে দোলনায় ঝোলে।
মৌমাছি ফুলে ফুলে মৌ তোলে
ভ্রমর মেতেছে ফুলের গন্ধে
নাচে আর গানের ছন্দে।
তাই তো প্রজাপতি
আনন্দে করে লুটোপুটি।
আকাশ মেলেছে রঙধনুতে
সেজেছে যেন কতো পরিপাটি
 মেঘ রঙ করে ছুটোছুটি,
গগনে মেঘের চাদরে দেয় জড়িয়ে
বিনুনী দেয় ঝুলিয়ে,
যেতে হবে দূরে বহুদূরে-
সাত সমুদ্র তের নদী ডুবটি দিয়ে
যায় সে তেপান্তের মাঠ পেরিয়ে।
 
 
 
 
 
 

বাদলের ধারা

 
 প্রকৃতি উচ্ছল প্রানবন্ত
বাতাসের কানে কথা বলছে,
মেঘে বিজলী করছে মিতালী
ঝড়ো হাওয়ার শেষে,
গুরু গুরু মেঘ গান ধরেছে।
উতলা চঞ্চলা মন
বাতাসের সাথে দুলছে।
জুঁই, চামেলী, কদম,কেয়া ফুটেছে
ময়ূর পেখম তুলে নাচ ধরেছে।
হেঁটে  চলে চাষী মেঠো পথে
সাথে ধেয়ে চলে  ধেনু
রাখাল বাজায় প্রানের বেনু।
পানকৌড়ী জলকেলী খেলা করছে
 ডালে ঐ কাক বৃষ্টিতে ভিজে
চোখ দুটো যেন মুদে আসে।
প্রৃকৃতি  যেন শান্ত
সবকিছু পরিশ্রান্ত।
বাদলের ধারা ঝরে যায়
ঝর্ ঝর্ ঝর্ ঝর্
প্রকৃতি ঘুমায় মন্থর মন্থর।
 
 
   
 
 

প্রকৃতি ও নিজের অব্যক্ত ভাষা-৩

 কঠিন এবং সত্য কথাগুলো কাউকে বলা
বা বোঝানো বড় দুরূহ- কারন কথাগুলোর
মাঝে আবেগ-অনুভুতি-কষ্ট সবকিছু মিশে
অসহনীয় আগ্নেয়গিরির মতো স্ফুরিত হয়;
যদি তার সত্য কথা বলার সৎ সাহস থাকে।
এক্ষেত্রে আগেও বলেছি,আমার বিরুদ্ধচারন
রূপ নিয়ে (প্রকৃতি ও আমার অব্যক্ত কথা-১
লেখাতে) আমি কখনই নিজেকে খোলসের
 মাঝে লুকিয়ে রাখতে পারি না। আবার
কাউকে দেখিয়েও বোঝাতে পারি না- এ
কোন বৈরীতা। নিজেকে যখন প্রশ্ন করি
কোন প্রত্যুত্তর পাই না। তখন মনে হয় 
আমার যদি কচ্ছপ বা শামুকের মত কোন
খোলস থাকতো তাহলে আমি কখনই আমার এ
বিরূদ্ধচারন রূপকে প্রকাশ করতাম না- আজীবন
খোলসের মাঝে নিজেকে লুকিয়ে রাখতাম।
 

নির্মল আনন্দ

   চলেছি লেকের পাশে দিয়ে
জারুল অশ্বত্থ কতো অজানা গাছ
বিশাল আকারে ঘিরে।
রেখেছে ছায়ায় শীতল করে,
 জানায় সম্ভাষন সাদরে
মনে হয় বসে থাকি,
লেকের ঐ পাড়ে।
কৃষ্ণ চূড়ায় ভরে গেছে দূরে
কোকিলের কুহু তানে-
ফুলগুলো ঝরে পড়ে,
সুরের তালে তালে।
উচ্ছল মনটা চঞ্চলতায়
নেচে উঠে দুলে।
প্রজাপতি আর ভ্রমরের গানে
ঝিরিঝিরি বাতাস দোলা দেয় প্রানে।
 সুরের সাথে  মিশে যায় ছন্দ
এখানে নেই কোন বন্ধন,
  আছে শুধু  নির্মল আনন্দ।
 
 

কথামালা পর্ব-২৩

যদি কেউ নিজের সাথে প্রতারনা করে,
সে নিজে আত্মগ্লানিতে দগ্ধ হয়;
তখন তার বিবেকের কষ্টগুলো প্রতিহিংসা
 আকারে আশেপাশের মানুষের
মাঝে ছড়িয়ে দেয়। এটা এক ধরনের
মানসিক বিকৃতি।

 

 

কথামালা পর্ব-২১

জীবনে অনেক সময় কোন বৈচিত্র্য
 থাকে না। তখন প্রকৃতি বা যে কোন
কিছু থেকে শুধু নির্মল আনন্দটুকু
খুঁজে নেয়া উচিত।

কথামালা পর্ব-২২

জীবনের সবচেয়ে চরম সত্যগুলো
নিজের কাছে মেনে নেওয়া প্রচণ্ড
কষ্টকর। র এই সত্যের মুখোমুখি
হওয়ার পর, যে নিজের  বিবেক
এবং অস্তিত্বকে বাঁচিয়ে রাখতে
পারে সে জীবনের কঠিন বৈচিত্র্য
উপলব্ধি করতে পারে।

কথামালা পর্ব-২০

পৃথিবীর যেমন গতি আছে, মানুষের
জীবনেরও গতি আছে। তবে সেটা
 প্রত্যেকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন গতি। এটা
 নিয়তির কোন খেলা নয়। মাঝে
 মাঝে সেই গতির পরিনতি কঠিন এবং
নির্মম হয় তবু তাকে এই সত্য মেনে
 নিতেই হয়, এ থেকে কেউ নিস্কৃতি পায় না।

কথামালা পর্ব-১৯

মানুষের অপূর্ণতার মাঝে,
নিজেকে আবিস্কার করা এক
ধরনের সৃষ্টি। আর সৃষ্টি মানেই
বেদনা, কষ্ট এবং যন্ত্রনা।

পাণ্ডুর-পাথর

 
নেচে নেচে মেঘের ভেলা
 আকাশে  ভেসে করে  খেলা।
 রং তুলিতে আঁকে সারা বেলা
 শুধু  দেখি সাদা কালোর খেলা।
চলে যায় দূর থেকে দূরান্তে
ভেসে যায় কোন অজান্তে।
চেয়ে দেখি চমকে
মেঘ  গেছে থমকে
থেমে গেছে বাতাস  পলকে।
রিমঝিমিয়ে বৃষ্টি এলো
প্রকৃতির যেন  প্রান খুঁজে গেলো।
শুধু হৃদয়ের মাঝে  ছুঁয়ে গেলো
  সেখানে নেই কোন স্পন্দন
সবকিছু   নীরব- নিথর
নিবন্ত  যেন পাণ্ডুর-পাথর।

কথামালা পর্ব-১৮

নিজের প্রতিবিম্ব অন্যের মাঝে যারা নিজেকে দেখতে চায় বা নিজের মত সবাইকে ভাবে তারা নিরেট মূর্খ এবং নির্বোধ।

কথামালা পর্ব-১৭

যদি উদার হও, সেই উদারতা তোমার মাঝে বার বার প্রস্ফুটিত হোক, সে দায়িত্বটুকু শুধু তোমার।

কথামালা পর্ব-১৬

শারিরীক কোন ক্ষত হলে সেটা পুষিয়ে নেয়া যায়, মানসিক আঘাতের শিকার হলে প্রতিভা বিকাশের পথকে প্রতিহত করে।

কথামালা পর্ব-১৫

তোমার নির্মল ভালবাসা দেয়ার জন্য যোগ্য কাউকে না পেলে একটা প্রানীকে দিও। সে তোমাকে তার হৃদয় উজাড় করে শর্তহীন প্রতিদান দেবে।
Older entries »