শিউলী ইসলাম’এর ব্লগ

জীবন মানেই গল্প কবিতা ছন্দের আলোকিত শক্তি

বর্বর মানসিকতার অবসান চাই

 

 

 উপন্যাস গল্প লেখার কোন ইচ্ছে নেই।শুধু টুকরো টুকরো কিছু কথা বলার  জন্য লেখা। পত্রিকাগুলোর পাতাতে দেখি  মেয়েরা নির্যাতিত হচ্ছে এখানে বয়সের কোন ব্যাপার নেই।    শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এই নির্যাতনের আবার  অনেক ক্ষেত্র এবং প্রকার ভেদ রয়েছে। আমার একজন পরিচিত মেয়ের কথাই বলি। শিশুকাল থেকে তার মা তাকে স্কুল কলেজে যেখানেই যাক না কেন  তাকে নিয়ে যেতেন।  কোথায়    তার মেয়ে  নির্যাতনের   শিকার হয় এই আশংকায় সবসময় সে বিচলিত থেকেছে।    তিনি ভেবেছে  বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট  অথবা মেডিকেল কোথাও ভর্তি হলে এ সমস্যা আর  থাকবে না। কিন্তু আজ সে বড়ই শন্কিত এবং উদ্বিগ্ন কোথায় তার মেয়েকে ভর্তি করবেন এ আশংকায়।  বিশ্ববিদ্যালয় একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠা এখানকার শিক্ষকদেরকেও তাঁর কাছে নিরাপদ মনে হচ্ছে না। আমরা এ কোন সমাজে বাস করি !

বর্বরতার চরম শিখরে পৌঁছে গেছি!মেয়েটির বাবা  মার এই আশংকা  শিক্ষকরা তাদের খুশীমত ছাত্রীদেরকে ডেকে পাঠান শুধুমাত্র নোট আদানপ্রদান অথবা আলাপ করার জন্য। আর সেসময় গুটিকতক শিক্ষকদের মধ্যে যাদের  বর্বর মানসিকতা তারা একজন মেয়েকে অবলীলায় লাঞ্ছিত করে ছেড়ে দিতে পারে । যদি  কেউ কোন প্রতিবাদ করে তবে তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী নেওয়ার কথা চিন্তা করা দুরাশা। আবার মেডিকেলের চিত্র ভিন্ন ভাইভার জন্য এখানে ছাত্রীরা  শিক্ষকদের হাতের কাঠের পুতুল।  যদি কেউ প্রতিবাদ করে তাকে প্রতি বছর ফেল করিয়ে দেবে। এই শঙ্কায় অধিকাংশ ছাত্রীরা এই নির্যাতন অবলীলায় মেনে নেয়।

এ ছাড়াও আরেকটি কারণ রয়েছে,   দ্রুত ডিগ্রী নিয়ে আত্মকেন্দ্রিক  সুযোগে থেকে  কেউ সময় অপচয় করতে চায় না। একটা সাদা কাগজে ডিগ্রী ছাড়া এদের আর কিছুই কাম্য নয়। এদের মানসিকতা এতটাই দুর্বল এবং নিম্নস্তরে থাকে বলে এরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কথা  চিন্তা করতেও ভয় পায়। এরই মাঝে গুটিকতক সুস্থ মানসিকতার ছাত্রী রয়েছে যাদেরকে দুমড়ে মুচড়ে রেখেছে।কারণ সমাজ তাদেরকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে – তোমাদের রাস্তা ভুল, কারণ তোমরা সংখ্যালঘু। প্রতিবাদের জন্য এরা কলঙ্কিত।

এতটুকু বলতে পারি, বড় বড় ডিগ্রী শুধুমাত্র চাকরী বা একটা বড় চেয়ার দখল করার জন্য নয়। এগুলো একজন মানুষকে উন্নত মানসিকতা, চিন্তা-চেতনায় সমাজকে উন্নতর শিখরে পৌঁছে দেবার চাবিকাঠি। আমরা যাদেরকে সংখ্যালঘু ভাবি তাদের পাশে এসে দাঁড়াতে পারি আমাদের সংখ্যাগরিষ্টতার জন্য এ ব্যাপারগুলো ঘটানোর আগে একবার অন্ততঃ  চিন্তা করবে। 

   আজ বিডিআর সেনাবাহিনীর মত স্পর্শকাতর জায়গাগুলোর ক্ষেত্রে একই বর্বর মানসিকতার একটা মিল দেখতে পাচ্ছি। এই মানসিকতা প্রতিটি জায়গায় রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে গেছে। এজন্য শুধু অপরাধীকে খুঁজে বের করে আইনের সাজা হলেই যে সবকিছুর সমাধান হবে তা কিন্তু নয়। আমার মনে হয়েছে সমস্যাটা আসলে গোড়াতে। কখনও একজন অপরাধীকে আইনকানুন বা শাস্তি দিয়ে বন্ধ হবে না।যেমন ভালো বীজ বপন না করলে ভালো ফসল পাওয়া যায় না তেমনি একজন মানুষের ক্ষেত্রে শিশুকালেই মন মানসিকতা সবকিছু তৈরীর বয়স। সেখানে যদি কোন ভুল-ভ্রান্তি থেকে থাকে। তাহলে পরে যতই আইনের মধ্যে রেখে শাস্তি দিয়ে কোনভাবেই তাকে শোধরানো যাবে না। সেজন্য যেকোন উচ্চপর্যায়ে বা স্পর্শকাতর পদগুলোতে ডিগ্রীর পাশাপাশি  আসল পরিচয় এবং মানসিকতার পরীক্ষা করে তবেই তাকে সেই আসনের জন্য বিবেচনা করা উচিত। এরপরেও কিছু কথা থেকে যায় – যারা পরীক্ষা নেবেন তাদের যোগ্যতা পরীক্ষা নেবেন কারা। 

 

 

No comments yet»

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: